
আক্তার হোসেন শিহাব:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে স্বামীর পরকীয়ার জেরে মানসিক চাপে ভেঙে পড়ে ভিডিও কলে রেখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন শান্তা আক্তার সাথী (২৮) নামে এক গৃহবধূ। হৃদয়বিদারক এ ঘটনা ঘটে শুক্রবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের ধানুয়া গ্রামে।
মৃত শান্তা আক্তার সাথী ওই গ্রামের ছৈয়াল বাড়ির মো. নাছির খাঁনের স্ত্রী এবং দুই সন্তানের জননী। দীর্ঘ ১২ বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। সম্পর্কে তারা খালাতো ভাই-বোন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিয়ের শুরুতে শান্তা ও নাছিরের দাম্পত্য জীবন সুখেই কাটছিল। কিন্তু নাছির একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে এক নারীর সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারে দেখা দেয় চরম অশান্তি। একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
স্ত্রীর পক্ষ থেকে সংসার টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চললেও স্বামীর অব্যাহত বিশ্বাসঘাতকতায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন শান্তা। স্বামীর প্রতি অভিযোগ, তিনি প্রায় সময়ই শান্তাকে মানসিক নির্যাতন করতেন এবং খরচ দিতেন না।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নাছিরের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সময় এক পর্যায়ে হঠাৎ নিজ ঘরে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন শান্তা। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত পুলিশে খবর দেন। ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ রাতেই মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ঘটনার পর শান্তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করে একই বাড়ির আবুল হোসেনের জিম্মায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, “ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। আত্মহত্যার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।”
স্থানীয়রা জানান, শান্তা ছিলেন অত্যন্ত সহজ-সরল ও সংসারপ্রেমী নারী। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এখন দুটি শিশুসন্তান কীভাবে বেড়ে উঠবে, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ।