
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গণভোটের প্রচারণা চালানোর সময় এক নারী কর্মীকে টানা–হেঁচড়া, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে স্থানীয়রা চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এলাকার প্রথম প্রকাশ্য সহিংসতা হিসেবে দেখছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আমেনা আক্তার (৩৮) মঙ্গলবার রাতে শাহরাস্তি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার বিকেল চারটার দিকে আমেনা আক্তার তাঁর দুই সহযোগী নাছিমা বেগম ও পুষ্পা আক্তারকে নিয়ে খেড়িহর এলাকায় জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটে অংশগ্রহণে উৎসাহমূলক প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তারা স্থানীয় মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করে ওঠা-নামার এক পর্যায়ে পৌঁছান বাঙ্গাল বাড়ির উঠানে।
সেই সময় একই এলাকার মোর্শেদ, ইয়াছিন ও রাকিবসহ আরও ১৫ থেকে ১৮ জন নারী কর্মীদের পথ আটকে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বিবাদীরা শুরুতে নানা কটূক্তি করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তারা লাকড়ি হাতে নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় আমেনাসহ তিনজন মারধরে আহত হন। শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখমের চিহ্ন দেখা গেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।
আমেনা আক্তার থানায় জানান, হামলাকারীরা তাদের নামাজ পড়তে বাধা দিয়ে কিছুক্ষণ আটকে রাখে। আশপাশের লোকজন ছুটে এলে তারা সেখান থেকে সরে যায়, তবে যাওয়ার আগে ভুক্তভোগীদের পুকুরপাড়ে নিয়ে ‘খারাপ কাজ’ করার হুমকি এবং প্রাণে হত্যার ভয় দেখায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে তিনি আইনের আশ্রয় নিতে থানায় আসেন।
ঘটনার বিষয়ে শাহরাস্তি থানার একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশ তুলনামূলক শান্ত থাকলেও মঙ্গলবারের এই ঘটনা এলাকায় উত্তেজনা বাড়িয়েছে। অনেকেই এটিকে চলমান জাতীয় রাজনীতির উত্তাপে শাহরাস্তিতে প্রথম প্রকাশ্য সংঘাত হিসেবে দেখছেন।