
নিজের ১৬ বছরের মেয়েকে দুই দফা ধর্ষণ করে গর্ভবতী করার পর দীর্ঘদিন পলাতক থাকা পাষণ্ড পিতা মো. জসিম উদ্দিনকে (৩৭) গ্রেফতারে সক্ষম হয়েছে শাহরাস্তি থানা পুলিশ। আজ রোববার বেলা সাড়ে তিনটায় ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। বহুদিনের অভিযান শেষে এই সফলতা পেল থানা পুলিশ।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনার পর থেকেই আসামি জসিম উদ্দিন আত্মগোপনে চলে যায়। থানা পুলিশ তাকে ধরতে একাধিকবার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। অবশেষে উপপরিদর্শক আলামিন ভূঁইয়া ও মিঠুন দাসের নেতৃত্বে একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
ওসি মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “নরপিশাচ জসিমকে আটক করে ঢাকা থেকে শাহরাস্তিতে নিয়ে আসা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা তার সন্ধানে ছিলাম। আজ সেই সফলতা অর্জন করেছি। এ ধরনের জঘন্য অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
গত ৬ মার্চ ভিকটিমের মা শিরিন আক্তার স্বামীর বিরুদ্ধে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শাহরাস্তি থানায় মামলা দায়ের করেন। মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে অভিযুক্ত জসিম পরিবারের সদস্যদের রেখেই পালিয়ে যায়। থানা পুলিশ মামলা দায়েরের পর থেকেই তাকে ধরতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছিল।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ডিসেম্বর ও ১১ জানুয়ারি তারিখে দুই দফা নিজ কন্যা সন্তানকে ধর্ষণ করে জসিম। পরে মেয়ের গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে মা আইনের আশ্রয় নেন। স্থানীয় একটি মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চাপ সৃষ্টি করলেও তিনি মামলা করতে সক্ষম হন।
গ্রেফতারকৃত জসিম উদ্দিনকে আজই শাহরাস্তি থানায় নিয়ে আসা হচ্ছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে প্রেরণ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। থানার এই সফল অভিযানে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন স্থানীয়বাসী।