শাহরাস্তি থানার সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের পাড়া নগর এলাকায় মর্মান্তিক এক ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ৪/৫ দিন বয়সী এক নবজাতক ছেলের লাশ প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ ভর্তি করে পাশের খালে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। বিকেলে জমিতে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় এক নারী ও তার পুত্রবধূ ব্যাগটি ভাসতে দেখেন। কৌতুহলী হয়ে ব্যাগ টেনে আনতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে শিশুটির নিষ্প্রাণ দেহ।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার ১৪ জুন বিকেল আনুমানিক ৪টায়। একই বাড়ির বাসিন্দা শাহানারা বেগম (৬৫) ও তার পুত্রবধূ শিরিনা বেগম (২৮) নিজেদের জমিতে কাজ করছিলেন। হঠাৎ পাশের খালের জলে একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ ভাসতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। স্থানীয়দের কেউ কেউ জানান, প্রথমে তারা আবর্জনা ভাবলেও ব্যাগের আকার ও ওজন অস্বাভাবিক মনে হয়। ব্যাগ টেনে পাড়ে তুলে খুলতেই রক্তাক্ত নাভির সুতোয় জড়ানো একটি নবজাতকের লাশ দেখে চিৎকার করে ওঠেন দু’জনই।
আশপাশের লোকজন জড়ো হলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়—কেউ এই শিশুটিকে খালে ফেলে এসেছে।
খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ কামাল হোসেন থানায় জানান। শাহরাস্তি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে। পুলিশ জানিয়েছে, নবজাতকের বয়স আনুমানিক ৪ থেকে ৫ দিন। লাশের গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই কি না, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।
তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—কার উদরে জন্ম নেওয়া এই শিশুটি, কেন তাকে এভাবে নদীর জলে ফেলে দেওয়া হলো? অনেকেই সন্দেহ করছেন, এটি অবৈধ সম্পর্ক বা অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের ফল হতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, অজ্ঞাত এই নবজাতকের লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হতে পারে। নিকটস্থ হাসপাতালের মর্গে লাশ রাখা হয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা আশপাশের এলাকায় গত কয়েকদিনে কোনো গর্ভবতী নারীকে হঠাৎ করে সন্তানহীন দেখা গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছি। সম্ভাব্য মায়ের সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়েছে।”
প্রতিবেশী জেসমিন বেগম বললেন, “এমন নিষ্ঠুরতা দেখিনি। বাচ্চাটা পৃথিবীর আলো দেখার আগেই অন্ধকার খালে ঠাঁই পেল।”
অনেকে আবার সুরক্ষিত কিশোরী গর্ভধারণ বা বাল্যবিবাহের প্রসঙ্গও তুলছেন। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পায়নি।
প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগ—যা কিনতে পারেন আশপাশের দোকান থেকেই। সেই ব্যাগে পানি পড়ে ভেসে যাওয়ার আগে কে ফেলেছিল খালের জলে? কোনো হাসপাতালে সন্তান হওয়ার পরই কী এমন ঘটল? নাকি ঘরেই প্রসব?
এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। তবে এলাকাবাসী একটি জিনিস নিশ্চিত—এই ঘটনা মানুষের বিবেককে কাঁপিয়ে দিয়েছে।