
মোঃ সাইফুদ্দীন:
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় তিন বছরের শিশু তাসনুহা তাবাসসুমকে হত্যার ঘটনা এলাকায় শোক আর ক্ষোভের ঝড় তুলেছে। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে বাড়ির পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির চাচী সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খেলতে খেলতে ঘর থেকে বের হয়ে যায় তাসনুহা। এরপর দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। পরের দিন বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে বাড়ির পেছনের পুকুরে একটি বস্তা ভেসে ওঠে। পরে বস্তা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামী সাথী আক্তার চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। তিনি জানান, রান্না করার সময় পাতিলের ভাতের মাড় শিশুটির শরীরে পড়ে গিয়ে দগ্ধ হয়। এতে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে তিনি গলা টিপে হত্যা করেন। প্রথমে মরদেহ আলমারিতে লুকিয়ে রাখা হয়, পরে কম্বল ও বস্তায় ভরে সিলিংয়ে রাখা হয়। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে তা নামিয়ে এনে বাড়ির পেছনের পুকুরে ফেলে দেন।
তবে তদন্তে আরও একটি বিষয় উঠে আসে। কয়েক দিন আগে শিশুটির মা বিলকিসের ঘরে চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন সাথী আক্তার। ওই ঘটনার ক্ষোভ থেকেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।
সাথী আক্তারের স্বামী রিপন পাটোয়ারী পেশায় কাঠমিস্ত্রি। তাদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান আছে—একজনের বয়স ছয় বছর, আরেকজনের দুই। এলাকাজুড়ে সাথীর বিরুদ্ধে আগেও নানা চুরির অভিযোগ ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
শিশু তাসনুহার মা-বাবা জানান, আমরা আমাদের মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। আমরা তার ফাঁসি চাই।
শিশুটির দাদা এসহাক পাটোয়ারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বুধবার সকালেও শেষ নাতির সঙ্গে নাস্তা করেছিলাম। কে জানত, এটাই হবে শেষ সময়।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম বলেন, “গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই সাথীর বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিল। এবার তার হাতে প্রাণ গেল একটি নিরপরাধ শিশুর।”
শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল বাসার জানান, “এফআইআর নং-৫, তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫; জি আর নং-১৩৬/২৫ ধারায় (৩০২/২০১/৩৪) মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
শিশু তাসনুহার হত্যাকাণ্ড পুরো গ্রামে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে দিয়েছে। গ্রামবাসীর মতে, ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে এভাবে একটি নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করার ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য সতর্কবার্তা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ঘটনা পারিবারিক দ্বন্দ্ব, সামাজিক নৈতিকতার অভাব এবং আইনশৃঙ্খলার প্রতি উদাসীনতার একটি বড় উদাহরণ। তারা বলছেন, সমাজে এ ধরনের অপরাধ ঠেকাতে পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক সচেতনতা জোরদার করতে হবে।