শাহরাস্তি (চাঁদপুর) থেকে : চাঁদপুরের শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর উপলক্ষে সভা, মধ্যাহ্নভোজ ও আনন্দ নৌবিহারের আয়োজন করা হয়েছে। পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে সহকর্মীদের নিয়ে আনন্দ-আড্ডা আর সৌহার্দ্যের এই আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠেন প্রেসক্লাবের সদস্যরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শাহরাস্তির মেহার কালীবাড়ি এলাকায় প্রেসক্লাব কার্যালয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর উপলক্ষে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রেসক্লাবের অধিকাংশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মো. নোমান হোসেন আখন্দ।
সভায় নবনির্বাচিত সভাপতি মো. মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক মো. নোমান হোসেন আখন্দ ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুব হাসান বাবলুর নেতৃত্বে প্রেসক্লাবের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং সদস্যদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় প্রেসক্লাবের মেয়াদ দুই বছর করার প্রস্তাবও উঠে আসে।
সভা শেষে সদস্যদের জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। এরপর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গন্ধব্যপুর ব্রিজসংলগ্ন ঘাট থেকে শুরু হয় বহুল প্রতীক্ষিত আনন্দ নৌবিহার। সাংবাদিকদের বহনকারী নৌযানটি ডাকাতিয়া নদীর শান্ত জলরেখা ধরে পশ্চিম দিকে এগিয়ে হাজীগঞ্জ বাজার এলাকায় পৌঁছে। সেখানে চা-পানের সংক্ষিপ্ত বিরতির পর আবার গন্ধব্যপুর ব্রিজসংলগ্ন ওয়াকওয়ের ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা করে।
প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার এই নৌবিহার শেষ হয় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।
ডাকাতিয়ার শান্ত জল, নদীর দুই পাড়ের সবুজ প্রকৃতি আর সহকর্মীদের প্রাণখোলা আড্ডায় ভিন্ন এক আবহ তৈরি হয় পুরো আয়োজনে। সংবাদ সংগ্রহ, লেখা, ছুটে চলা ও পেশাগত নানা ব্যস্ততার বাইরে এদিন সাংবাদিকরা যেন ফিরে পান এক টুকরো নির্মল অবসর। হাসি-আনন্দ, গল্প ও পারস্পরিক মতবিনিময়ে নৌযানটি পরিণত হয় সাংবাদিকদের এক আনন্দমুখর মিলনমেলায়।
প্রেসক্লাবের সদস্যরা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিজেদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি। এ ধরনের আয়োজন কর্মব্যস্ততার একঘেয়েমি ও মানসিক চাপ কিছুটা কমিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে এবং নতুন উদ্যমে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগায়।
নবনির্বাচিত কমিটির নেতারা জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর শাহরাস্তি প্রেসক্লাবকে আরও সংগঠিত, শক্তিশালী ও কল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রেসক্লাবের নিজস্ব জমিতে স্থায়ী ঠিকানা গড়ে তোলা, সদস্যদের জন্য আপৎকালীন তহবিল গঠন, সাংবাদিকদের সন্তানদের লেখাপড়ায় আর্থিক সহায়তা এবং অসুস্থ সাংবাদিকদের চিকিৎসায় সহযোগিতাসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তারা বলেন, প্রেসক্লাব শুধু সাংবাদিকদের পেশাগত সংগঠন নয়; স্থানীয় সমাজ ও মানুষের কল্যাণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান কমিটির লক্ষ্য হচ্ছে সংগঠনকে এমন একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকরা একটি সুসংগঠিত ও কল্যাণমুখী প্রেসক্লাবের উত্তরাধিকার পান।
সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঐক্য, পেশাগত দায়িত্ববোধ ও ইতিবাচক চিন্তার সমন্বয়ে শাহরাস্তি প্রেসক্লাব আগামী দিনে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কল্যাণ ও জনস্বার্থে সংগঠনটি আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন তারা।
দায়িত্ব হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা আর ডাকাতিয়ার বুকে আনন্দ নৌবিহার—দুইয়ে মিলে দিনটি শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সদস্যদের জন্য হয়ে ওঠে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের এক স্মরণীয় দিন।