শাহরাস্তিতে চিতোষী আর অ্যান্ড এম উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদায়ী শিক্ষক জাকির উল্লাকে রাজকীয় সংবর্ধনা
মোঃ সাইফুদ্দীন
চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী চিতোষী আর অ্যান্ড এম উচ্চ বিদ্যালয়ের বিদায়ী শিক্ষক ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জাকির উল্লা স্যারকে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও ভালোবাসার উপহার প্রদান করা হয়। এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ আবেগঘন পরিবেশে পরিণত হয়।
দীর্ঘ প্রায় চার দশকের শিক্ষকতা জীবনে তিনি সততা, নৈতিকতা ও আদর্শের সঙ্গে কখনো আপোষ করেননি। শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধ গঠনে তাঁর অবদান বিদ্যালয় পরিবার ও এলাকাবাসীর কাছে অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত। তাঁর শৃঙ্খলাবোধ, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক আচরণ তাঁকে শিক্ষক সমাজে একজন শ্রদ্ধেয় ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
অনুষ্ঠানে অত্র বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিমাই চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম (বিএসসি),
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন (বিএসসি),
উপজেলা জামায়াতের আমির মোস্তফা কামাল,
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতাহার আহম্মেদ তানভীর,
এবং বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য আলী হোসেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, মো. জাকির উল্লা স্যার ছিলেন একজন নির্লোভ, আপসহীন ও আদর্শবান শিক্ষক। তিনি শিক্ষকতা পেশাকে কেবল চাকরি হিসেবে নয়, বরং ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের নৈতিক গঠনে তাঁর অবদান আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষকদের জন্য তাঁর কর্মজীবন একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলেও বক্তারা মন্তব্য করেন।
বিদায়ী বক্তব্যে মো. জাকির উল্লা স্যার আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন,
“এই বিদ্যালয়, এখানকার শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও এলাকাবাসী আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে আমি সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। আমি যদি কোনো শিক্ষার্থীর জীবনে সামান্য হলেও ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পেরে থাকি, সেটিই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।”
তিনি আরও বলেন,
“শিক্ষকতা কখনোই শুধু একটি পেশা নয়, এটি একটি মহান দায়িত্ব ও আমানত। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষায় গড়ে তুলতে শিক্ষকদের নৈতিকতা ও আদর্শে আপসহীন হতে হবে। আজ আমি দায়িত্ব থেকে অবসর নিচ্ছি, তবে এই বিদ্যালয়ের প্রতি আমার ভালোবাসা আজীবন অটুট থাকবে।”
শেষে তিনি বিদ্যালয় পরিবার, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সবার দোয়া কামনা করেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আলমগীর হোসেন, মো. নজরুল ইসলাম ও মিরাজ হাসান।
উল্লেখ্য, মো. জাকির উল্লা ১৯৯০ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। ২০১১ সালে তিনি চিতোষী আর অ্যান্ড এম উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে তিনি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শিক্ষকতা জীবনের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর, যা ছিল তাঁর সর্বশেষ কর্মদিবস।
অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী শিক্ষক মো. জাকির উল্লা স্যারকে রাজকীয় সাজের গাড়িতে করে পুরো চিতোষী বাজার প্রদক্ষিণ করিয়ে তাঁর নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অতিথিবৃন্দ তাঁর সঙ্গে স্মৃতিচারণ করেন এবং আবেগাপ্লুত পরিবেশে তাঁকে বিদায় জানান।