জবানবন্দিতে আলমগীর হত্যার দ্বায় স্বীকার করে সোনিয়া ও পান্না,অন্য আসামীদের গ্রেপ্তারে তৎপর পুলিশ
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
পুলিশ জানায়, সোমবার রাতে এ হত্যাকান্ডের পর থেকেই তৎপর হয়ে উঠে পুলিশ, শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ, পিবিআই পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। হত্যাকান্ডের ঘটনাস্থল সৌদি প্রবাসী আবুল হোসেন মানিকের বসত বাড়ী বিল্ডিংয়ের ছাঁদ থেকে আলমগীর হোসেনের জবাইকৃত লাশ উদ্ধারের পর ওই বিল্ডিংয়ে বসবাসরত সৌদি প্রবাসী আবুল হোসেন মানিকের কন্যা মাহমুদা আক্তার সোনিয়া ও তার মা খোদেজা বেগম পান্নাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা আলমগীর হোসেনকে জবাই করে কুপিয়ে হত্যাকান্ডের বিষয়টি স্বীকার করে।
ঘটনায় নিহত আলমগীর হোসেনের বড় ভাই মো: রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ৪ জনকে এজাহার নামীয় আসামি, অজ্ঞাত ২/৩ জনকে বিবাদী করে, ধারা ৩০২/৩৪, একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং, ১৫, তারিখ. ১৮/৩/২৫ ইং।
মামলার এজাহার নামীয় আসামিরা হলেন: মাহমুদা আক্তার সোনিয়া (৩০) পিতা: আবুল হোসেন মানিক, সাং মনিপুর নতুন বাড়ী। তাজুল ইসলাম তপন (৪৩) পিতা: মো: সামছুল হক, সাং খিতার পাড়, খোদেজা বেগম পান্না (৫০) স্বামী : আবুল হোসেন মানিক, সাং মনিপুর, নতুন বাড়ী।
এদিকে হত্যাকান্ডে জড়িত সকল আসামীদের গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করে।
শাহরাস্তি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোহাম্মদ আবুল বাসার জানান, ঘটনায় প্রবাসী আবুল হোসেন মানিকের কন্যা সোনিয়া ও স্ত্রী পান্নাকে আটক করে কোর্টে প্রেরণ করা হয়।আসামিদের ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে ২দিনের রিমান্ড মন্জুর করে আদালত। রিমান্ডে আাসামীদ্বয় জবানবন্দিতে হত্যার দ্বায় স্বীকার করে। এটা পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলেও তারা স্বীকার করে।এ হত্যাকান্ডে জড়িত আরো আসামীর নাম উঠে আসে। বাকীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য নাম প্রকাশ করা যাচ্ছেনা।
উল্লেখ্য, ১৭ ই মার্চ সোমবার রাত ৮ টায় মনিপুর বেপারী বাড়ীর প্রবাসী আবুল হোসেন মানিক মিয়ার বসত বাড়ী (বিল্ডিংয়ের) ছাঁদ থেকে জবাই করা লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় লোকজন বিল্ডিংয়ের ছাদে কিছু একটা সমস্যা হচ্ছে মর্মে উঠে পাশ্ববর্তী আলমগীর হোসেনের জবাই করা দেহ পড়ে থাকতে দেখে। তাদের ডাক চিৎকারে পাশ্ববর্তী লোকজন এসে পুলিশকে খবর দেয়। এছাড়াও তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহত আলমগীর হোসেন (৩৮) ৩ কন্যা সন্তানের জনক। তার পিতার নাম মৃত: মোহাম্মদ শহীদ উল্ল্যাহ। তিনি পেশা হিসেবে এলাকায় মাইকিং, গাছ কাঁটার কাজ ও ভটভটি (নসিমন) চালাতেন।