শাহরাস্তিতে নিজ কন্যাকে ধর্ষণ ঘটনায় স্ত্রী বাদী হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এক পাষণ্ড পিতা নিজের ১৬ বছরের মেয়েকে দুই দফা ধর্ষণের পর গর্ভবতী করে ফেলার ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আইনের আশ্রয় নিতে থানায় মামলা করেছেন ভিকটিমের মা।
শাহরাস্তি থানাধীন চেঙ্গাচাল (কেশা হাজী বাড়ী) এলাকার মোঃ জসিম উদ্দিন (৩৭) পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। তার স্ত্রী শিরিন আক্তার (৩০) গৃহিণী। তাদের চার সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে জান্নাত আক্তারের (১৬) ওপর চলে আসে এই নৃশংস নির্যাতন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর বিকালে বাদী তার দুই ছেলে ও ছোট মেয়েকে নিয়ে হাজীগঞ্জ থানাধীন এনায়েতপুরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। বাড়িতে ছিলেন শুধু বড় মেয়ে জান্নাত ও তার পিতা জসিম উদ্দিন। ওই রাত আনুমানিক ১টার দিকে বাদীর অনুপস্থিতির সুযোগে জসিম তার মেয়েকে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেয় সে।
এর ১৫ দিন পর গত ১১ জানুয়ারি বিকালে বাদী তার বোনের ছেলে অসুস্থ থাকায় হাজীগঞ্জ থানাধীন বলাখালে যান। তখনো বাড়িতে ছিলেন মেয়ে ও তার পিতা। ওই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পুনরায় একইভাবে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং নানান হুমকি প্রদান করে জসিম।
দুই ঘটনার পরও মেয়ে ভয়ে কাউকে কিছু জানায়নি। সম্প্রতি মেয়ের শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে গেলে গর্ভ পরীক্ষার মাধ্যমে জান্নাত গর্ভবতী বলে নিশ্চিত হন বাদী শিরিন আক্তার। পরে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে তার পিতার কাছ থেকে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার বর্ণনা দেয়।
বাদী শিরিন আক্তার সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় এলাকাবাসী একাধিকবার সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।কিন্তু তা করতে না পারায় তিনি সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আইনের আশ্রয় নেন।
গত ৬ মার্চ শাহরাস্তি থানায় মামলা (নং-০৪) দায়ের করেন তিনি। এর আগে গত ৪ মার্চ স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে সংবাদটি প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকেই ধর্ষক পিতার ফাঁসির দাবিতে সোচ্চার হন।
শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামীকে গ্রেফতারে ইতোমধ্যে অভিযান শুরু হয়েছে। অতি দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষা ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় জড়িত জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সুধীজন ও মানবাধিকার কর্মীরা। তারা অভিভাবকহীন অবস্থায় মা ও মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও দেশে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি থামছেই না।