ডাকসুতে পরাজয়ের কারণ খুঁজে দেখার আহ্বান, শাহরাস্তি পৌর বিএনপির সভাপতি সি.এ. খায়েরের
আক্তার হোসেন শিহাব :
৯ তারিখ আয়োজিত ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল সমেত পরাজয়ের প্রেক্ষিতে, শাহরাস্তি পৌর বিএনপির সভাপতি সি.এ. খায়ের তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক মহল, সুশীল সমাজ, সাধারণ জনগণ, ছাত্র সমাজ, মিডিয়া ও সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে কলকাতার বুদ্ধিজীবী মহলেও।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অনিয়ম নিয়ে ঢাবি শিক্ষার্থীদের তুলনায় বহিরাগত পর্যবেক্ষকদের মাথাব্যথাই যেন বেশি। তবে ভোট প্রদানকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো জোরালো অভিযোগ এসেছে না।”
তিনি আরও বলেন, “শিবির বিজয়ী হলেও বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো আত্মসমালোচনায় ব্যর্থ হয়েছে। কেন পরাজয় হলো, সে বিষয়ে কোনো অনুসন্ধান না করে কেবল প্রতিপক্ষকে দায়ী করাই মূল প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
ভোটের হিসাব-নিকাশ
সি.এ. খায়ের লিখেছেন, ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েম শিবির থেকে ১৪০৪২ ভোট পেলেও বিপরীতে অন্য প্রার্থীরা (আবিদ ৫৭০৮, শামীম ৩৮৮৩, উমামা ৩৩৮৯, কাদের ১১০৩) মিলে মোট ১৪০৮৩ ভোট পান। একক জনপ্রিয়তায় শামীম এগিয়ে ছিলেন বলেও তিনি মনে করেন।
এছাড়া নারী প্রার্থী উমামা ও স্বতন্ত্র শামীম মিলিয়ে ৭২৭২ ভোট পেয়ে মোট কাস্টিং ভোটের ২৩ শতাংশ দখল করেছেন, যা মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ১৮ শতাংশ। এই সংখ্যক ভোটার কেন রাজনৈতিক প্যানেলের বাইরে ভোট দিয়েছেন, সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে বলেও তিনি মত দেন।
স্বতন্ত্রদের শক্তি
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের শক্তিশালী অবস্থানও লেখায় গুরুত্ব পেয়েছে। সম্পাদকীয় পদে সমাজসেবায় যুবায়ের বিন নাসির ৭৬০৮ এবং সাহিত্য সম্পাদক পদে মোসাদ্দেক আলী ৭৭৮২ ভোট পেয়েছেন—যা স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থীদের ভোটের সমীকরণ তৈরি করেছে।
অভিযোগ কোথায়?
সি.এ. খায়ের বলেন, “আমরা অভিযোগ করতে পারিনি যে নির্বাচন কর্মকর্তারা ফলাফল পরিবর্তন করেছে, শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে বা ভোট আগেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে।” কেবল একটি ব্যালেটে আগে থেকে দাগ পাওয়া গেলেও একাধিক ব্যালেটে তা পরিলক্ষিত না হওয়ায় অভিযোগটি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
নারী ভোটারদের প্রতিক্রিয়া
নারী ভোটাররা কেন্দ্রীয় সংসদে শিবিরকে ভোট দিলেও হলে ভোট দিয়েছেন স্বতন্ত্র বা বাগছাসকে। কেন তারা হলে রাজনৈতিক প্যানেলকে ভোট দিলেন না—এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন খায়ের। তিনি মনে করেন, নারী নেত্রী নাসিরন ফাতেমা জুমাকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য, বুলিং ও পাকিস্তানপন্থী স্লোগান নারী ভোটারদের বিরূপ করেছে।
আর্থিক দায়বদ্ধতা
ছাত্রদলের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি আর্থিক বিশৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করেছেন। প্রার্থীরা যাতে চাপমুক্ত থাকতে পারেন, সে জন্য কেন্দ্রীয় ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে নির্বাচনী ব্যয়ের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
করণীয় –
সি.এ. খায়ের বলেন, “ভাই নির্ভর ছাত্রনেতাদের বাদ দিয়ে মেধাবী ও আদর্শভিত্তিক নেতাদের দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। পাশাপাশি সাংবাদিক বা পেশাজীবীদের মাধ্যমেও একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করে ক্রস চেকিংয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে।”
তার মতে, নেতাদের অনুমান ও মনগড়া মন্তব্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে “সরিষায় ভূত” থেকেই যাবে এবং ভোটের যোগ-বিয়োগের সঠিক হিসাব মিলবে না।