আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
আজঃ শুক্রবার ● ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ ● ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ ● ২৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ ● বিকাল ৫:২২
সর্বশেষঃ

প্রবাসের স্বপ্নে সর্বস্ব হারাচ্ছে মানুষ: লক্ষ্মীপুর-শাহরাস্তি অঞ্চলে সক্রিয় প্রতারক চক্রের খপ্পরে বহু পরিবার

বিদেশে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। পোল্যান্ডে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শাহরাস্তি, রামগঞ্জ ও রায়পুর উপজেলার অর্ধশতাধিক প্রবাস প্রত্যাশী ও দরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে ৩ থেকে ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে এই চক্র। প্রতারণার শিকারদের মধ্যে রয়েছেন চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের মোঃ ফাহাদ হোসেন, তার ভাই মোঃ ফরহাদ হোসেন, নরিংপুর গ্রামের মোঃ রানা এবং রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের বহু হতদরিদ্র পরিবার।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার বাবলু ভূঁইয়া (জাহিদ) ও তার স্ত্রী রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের ইসরাত জাহান (নিতু)—এই দম্পতি নিজেকে ইউরোপে লোক পাঠানোর এজেন্ট পরিচয়ে প্রলোভন দেখিয়ে প্রবাস প্রত্যাশীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেন। কথিত ভিসা প্রক্রিয়া, ডকুমেন্টেশন, টিকিট ও চাকরির কথা বলে নেয়া হয় লাখ লাখ টাকা। টাকা নেয়ার পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেন তারা।

ভুক্তভোগীরা জানান, টাকা জমা দেয়ার পর কয়েক সপ্তাহ তাদের “ভিসা হয়ে গেছে”, “ফ্লাইট শীঘ্রই”, এমন নানা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সময় ক্ষেপণ করা হয়। পরে একপর্যায়ে ফোন নম্বর ব্লক করে তারা আত্মগোপনে চলে যান। এরপর একাধিক ভুক্তভোগী তাদের খোঁজ নিতে গিয়ে আরও হতবাক হন, যখন জানতে পারেন এই চক্র একাধিক জেলার অসংখ্য মানুষকে একইভাবে প্রতারণা করেছে।

শুধু প্রতারণাই নয়, অভিযোগ রয়েছে যে ফাহাদ ও ফরহাদকে চক্রের সদস্যরা এক পর্যায়ে জিম্মি করে রেখেছিল এবং তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ, মানহানিকর বক্তব্য ছড়িয়েছে। এতে পরিবারগুলো চরম সামাজিক অস্বস্তি ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হচ্ছেন।

ভুক্তভোগীরা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন,
“আমরা এখন আর কিছু চাই না, শুধু আমাদের কষ্টার্জিত অর্থটি যেন ফিরে পাই। এই প্রতারকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, যেন আর কেউ এমন প্রতারণার শিকার না হয়।”

তারা দেশের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী ড. মোহাম্মদ ইউনূস-এর সহানুভূতিশীল হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মনে করেন, ড. ইউনূসের বিচক্ষণ নেতৃত্বে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতায় এই ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব।

এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছেন, এই প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে। প্রশাসনের নিরবতা ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে মানুষ প্রতারিত হবে।

ভুক্তভোগীরা এখন আশায় বুক বেঁধে আছেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং দেশের বিবেকবান নাগরিকরা এই চক্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন। তারা চায়—প্রতারণার অর্থ ফেরত, সামাজিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার, এবং আইনের কঠোর শাস্তির মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্ত স্থাপন।

Special Day

Special Day
দিন ঘন্টা মিনিট সেকেন্ড

ফেসবুকে লাইক দিন

Categories