শাহরাস্তিতে জমি বিরোধে নিজ জায়গা থেকে বঞ্চিত আবুল কালাম, সাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার নিজমেহের মৌজায় দীর্ঘদিন ধরে একটি জমি নিয়ে চলমান বিরোধ বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন। ভুক্তভোগী আবুল কালামের অভিযোগ—বৈধ হেবা দলিল, নামজারি ও খারিজ থাকা সত্ত্বেও তিনি তার নিজের জমির দখল পাচ্ছেন না। এর জন্য তিনি সাবেক পৌর মেয়র হাজী আব্দুল লতিফকে দায়ী করছেন।
আবুল কালাম জানান, ২০১২ সালের ১০ জুলাই তারিখে নিবন্ধিত ২২৩৬ নং হেবা দলিলের মাধ্যমে তার মা তাকে ১৮ শতাংশ জমি দেন। পরবর্তীতে ভাইদের কাছ থেকে আরও ১৪ শতাংশ জমি কিনে মোট ৩২ শতাংশ জমির মালিক হন তিনি। খতিয়ান, নামজারি ও খারিজ সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও জমিটি দখলে নিতে পারেননি তিনি।
জমিটি হাল ৬০ নং নিজমেহের মৌজার বি.এস ১৭০৯ ও খারিজি ৪৬৬৬ নং খতিয়ানে, সাবেক ৮৯১ ও হাল ৬৭৫৫ দাগে অবস্থিত। উত্তরে খাল, দক্ষিণে অহিদুর রহমান, পূর্বে ছবর আলী ও পশ্চিমে জহিরুল ইসলাম গং-এর জমি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জমির বড় একটি অংশ জহিরুল ইসলাম ও তার পরিবারের দখলে রয়েছে। তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম গণমাধ্যমকে জানান, তাদের নামে কোনো বৈধ দলিল নেই। স্থানীয় সূত্র জানায়, জহিরুল ইসলাম সাবেক মেয়র আব্দুল লতিফের আত্মীয় হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে তারা সেখানে বসবাস করছেন।
বর্তমানে মামলাটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চাঁদপুর আদালতে বিচারাধীন (মামলা নং: ৪৫৪/২০২৫)। আদালতের নির্দেশে উভয় পক্ষকে নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণে নিষেধ করা হলেও অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষ সেখানে গরুর ঘর নির্মাণ করেছে।
আবুল কালাম বলেন, “আমি কারও জমি চাই না, নিজের বৈধ জমির দখল চাই। বারবার স্থানীয়ভাবে সালিশে প্রমাণ সাপেক্ষে আমার মালিকানা নিশ্চিত হলেও প্রভাব খাটিয়ে প্রতিপক্ষ দখলে আছে। আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।”
এ ঘটনায় সাবেক মেয়র আব্দুল লতিফের বক্তব্য জানতে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনা শুধু শাহরাস্তি নয়—সারাদেশেই একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও দখল না পাওয়া বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।