শাহরাস্তির কৃষ্ণপুরে আনোয়ার স্টোরে অগ্নিকাণ্ড: প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত আগুন দেওয়ার অভিযোগ
চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকায় আনোয়ার স্টোর নামক একটি মুদির দোকানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।এতে পুরো দোকান পুঁড়ে ছাঁই হয়ে যায়। দোকান মালিক আনোয়ার হোসেন (৫৫) অভিযোগ করে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তার দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং কৃষ্ণপুর নদীর পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে মুদির দোকান পরিচালনা করে আসছেন। অভিযুক্তরা তার প্রতিবেশী এবং দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক ও পারিবারিক বিরোধ চলছিল। আনোয়ারের দাবি, প্রতিপক্ষ প্রায় সময় তাকে প্রাণনাশ ও দোকানে আগুন দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল।
ঘটনার দিন গভীর রাতে (২০ জুন, আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে) সাক্ষী মিন্টু মিয়া তাকে ফোন করে জানান যে, তার দোকানে আগুন লেগেছে। ছুটে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার দোকান পুরোপুরি আগুনে পুড়ছে এবং সেই মুহূর্তে বিবাদীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করছে। আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। এতে আনুমানিক পাঁচ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় স্থানীয় আলমগীর, মনির, জসিম ও সফিকসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
আনোয়ারের ভাই জাকির মিয়া জানান, অভিযুক্তদের কয়েকজন দেশের বাহিরে থাকতো ওখান থেকেও হুমকি দিতো দেশে এসে নিঃশেষ করবে আমাদের। গত মার্চ মাসেও অভিযুক্ত মনির ও আলমগীর আমার ব্যবসায় অনৈতিক হস্তক্ষেপ করায় আমার ভাই আনোয়ার প্রতিবাদ করলে আমাকে ও তাকে মারধর করে।আমার ভাইয়ের গলার পিছন দিয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরবর্তীতে স্থানীয় শালিসে বিষয়টি মিমাংসা হলেও তাদের আক্রোশ থেকে যায়। দেশে ফিরে অভিযুক্ত জসিম ও সফিক সহ এরা সকলে আমার ভাইকে হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। আর্থিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে চায়। যারা তাদের অনুগত নয়, তাদেরকেও হুমকি-ধামকি এমনকি হামলার মুখে পড়তে হবে বলে ভয় দেখায়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শাওন বলেন, “আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিলো যে, দোকানের ভেতর থেকে কিছুই বের করতে পারিনি।”
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের একজন শফিক মিয়া বলেন, “আমরা ঘটনার সময় এলাকায় ছিলাম না। তবে আনোয়ারের দোকানে বাজে লোকদের আড্ডা বসতো, আমরা তাকে বহুবার সতর্ক করেছি। অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”
শাহরাস্তি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আবুল বাসার বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার ক্ষতি পূরণ দাবি করেন।