শাহরাস্তি আনসার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, বিভাগীয় মামলা রুজু
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তুলসী দেবনাথের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করেছে।
স্থানীয় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় এক দশক ধরে একই উপজেলায় কর্মরত থেকে তুলসী দেবনাথ বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের সাথে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে— দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডিউটির জন্য নিয়োগ দিতে জনপ্রতি ৫০০–১০০০ টাকা ঘুষ গ্রহণ, মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণে অংশ নিতে ৫০০০–৮০০০ টাকা দাবি, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণে ২০০–২৫০০ টাকা উৎকোচ, দলনেতা-দলনেত্রীদের মাসিক ভাতা থেকে নিয়মিত টাকা কর্তন এবং নির্বাচনকালীন সরকারি ভাতা বণ্টনে অনিয়ম।
এ বিষয়ে কুমিল্লা রেঞ্জ পরিচালক আশীষ কুমার ভট্টাচার্য ও ১৭ আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক ফাতেমাতুজ জোহরার নেতৃত্বে তদন্ত পরিচালিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় উত্তর ইউনিয়নের দলনেতা মো. মোস্তফা কামালকে “অসদাচরণ”-এর অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছরের কর্মজীবনে সততার সাথে দায়িত্ব পালনকারী মোস্তফা কামাল ২০১৬ সালে “প্রেসিডেন্ট ভিডিপি সেবা পদক” অর্জন করেছিলেন। তিনি দাবি করেন— এটি সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক এবং দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় তাকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুনর্বহাল ও স্থগিত ভাতা চালুর দাবি জানিয়েছেন এবং প্রধান উপদেষ্টা বরাবর আবেদন করেছেন।
তার অভিযোগ, উপজেলা কর্মকর্তা তুলসী দেবনাথ ও প্রশিক্ষক পিন্টু চন্দ্র দাসের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলায় তাকে এবং আরও কয়েকজন দলনেতাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এমনকি দুইবার “প্রেসিডেন্ট আনসার সেবা পদক” পাওয়া কোম্পানি কমান্ডার আব্দুস ছাত্তার ও পৌর দলনেতা মোজাম্মেল হোসেনকেও একইভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে সম্প্রতি শাহরাস্তির চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের ফরিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত গ্রামভিত্তিক ভিডিপি মৌলিক প্রশিক্ষণে ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়ে। ঘোষিত ৭০ জন প্রশিক্ষণার্থীর স্থলে প্রথম দিনে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ৪১ জন। চতুর্থ দিনে গিয়ে দেখা যায়, উপস্থিতি আরও কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। তবুও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তুলসী দেবনাথ দাবি করেন, মোট ৭০ জন অংশ নেবে এবং সবার জন্যই সনদ ও ভাতা প্রদান করা হবে। এতে প্রশ্ন উঠেছে— যারা প্রশিক্ষণে অংশই নেয়নি, তাদের নামে কীভাবে ভাতা ও সনদপত্র বিতরণ হবে?
ভুক্তভোগী আনসার সদস্যদের অভিযোগ, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু সদস্যদের আর্থিক ক্ষতিই করছে না, বরং পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তারা আরও অভিযোগ করেন, অনিয়মের প্রতিবাদকারীদের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে প্রশ্ন করলে তুলসী দেবনাথ বলেন, “কিসের দুর্নীতি? আপনারা আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে জিজ্ঞেস করুন।”
স্থানীয় আনসার-ভিডিপি সদস্যরা সরকারের কাছে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত কর্মঠ সদস্যদের মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।