আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
আজঃ রবিবার ● ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ ● ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ ● ২রা জিলক্বদ, ১৪৪৭ ● বিকাল ৫:৫৯
সর্বশেষঃ

আদর্শ ও আদর্শ নেতা হিসেবে যাকে মানবেন

আদর্শ বলতে অনুকরণীয়-অনুসরণীয় ও গ্রহণযোগ্য চালচলন এবং রীতিনীতিকে বোঝায়।
আপনাকে যদি বলি, আপনার জীবনের আদর্শ কে? নিশ্চয়ই কারো না কারো নাম আসবে। আমাদের সবারই আদর্শ থাকে। কারো আদর্শ তার বাবা, কারো মা, কারো আদর্শ তার প্রিয় লেখক, কারো খেলোয়ার, কারো আদর্শ নেতা, কারো বা নায়ক-নায়িকা।
যাদের আমরা প্রানপন অনুকরন করার চেষ্টা করি। পারি বা না পারি, চেষ্টার কোন কমতি থাকে না।কেউ কেউ তাঁদের সান্নিধ্য পায়,আবার এমনও হয়, কখনোই তাঁদের দেখা মিলে না। তবুও থেমে থাকে না অন্ধ অনুকরণ! এমনকি তাঁদের জন্য আমরা মরতেও প্রস্তুত থাকি!

কখনো ভেবে দেখেছেন, সারাজীবন অনুকরণের ফলাফল কি? কি পেয়েছেন আপনি? তাছাড়া যাকে অনুকরণ করলেন, তিনি কি আসলেই অনুকরণের যোগ্য? কে বিচার করবে?কোন মানুষের জীবনে যদি এক ফোঁটা পরিমান ভুলও থাকে সে কিভাবে আদর্শ?
সাধারণত মানুষের আদর্শ নির্বাচিত হয় তার প্রিয় বিষয়ের উপর নির্ভর করে।যে খেলা পছন্দ করে তার আদর্শ হবে সেরা কোন খেলোয়ার। যে পড়তে পছন্দ করে তার আদর্শ হবে সেরা কোন লেখক। নিজে কিছু পারুক বা না পারুক, নিজ আদর্শের মানুষের সাফল্যে নিজেকে সফল মনে করে। এটা এক ধরনের ফ্যান্টাসি ছাড়া আর কিছুই নয়।
মজার ব্যাপার হল, আপনার আদর্শের মানুষ কিন্তু সব দিক দিয়ে সেরা নন। হয়তো কোন এক বিষয়ে তিনি পারদর্শি। কিন্তু আদর্শ মানুষ হতে হবে সব দিক থেকে সেরা।যার জীবনে কোন ত্রুটি বা পাপ নেই সেই কেবল হতে পারে মানবজাতির আদর্শ।আর এটা একমাত্র স্রষ্টাই বলেছেন কে সে!

চলুন একটু অন্যভাবে ভাবা যাক।
১৮ হাজার মাখলুকাতের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ হল মানুষ। আল্লাহপাক মানুষের চেয়ে দামী কিছু সৃষ্টি করেন নি। আপনি-আমি সেই মানুষ।আল্লাহ্‌ আমাদের এত বড় সম্মান দিয়েছেন তাই আল্লাহ্‌র দরবারে জানাই শতকোটি শুকরিয়া। আলহামদুলিল্লাহ্‌।
এবার বলুন, মানুষের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ কে?

ঠিক ধরেছেন! তিনি আমাদের রাসুল (সাঃ)। তাঁর চেয়ে দামী মানুষ আদি থেকে কেয়ামত পর্যন্ত কোনদিন আসবে না। তাঁর মাঝেই আল্লাহ্‌ দিয়ে দিয়েছেন সর্বোত্তম গুনাবলী এবং সর্বোত্তম আদর্শ। রাসুল (সাঃ) কিন্তু শুধুমাত্র এক বিষয়ে সেরা নন। তিনি সব বিষয়ে সেরা। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি এমন কোন বিষয় নেই যেখানে আমরা রাসুল (সাঃ) কে সেরা হিসেবে খুঁজে না পাই।
জীবনে কখনো কি তাঁকে আদর্শ হিসেবে চিন্তা করেছেন? কখনো কি ভেবেছেন, তাঁর মতো হবেন? কখনো কি ভেবেছেন তাঁর আদর্শের জন্য নিজের জীবন দিবেন??

ধর্মীয় ভাবে না মানলেও, মানুষ হিসেবে যে তিনি সবার সেরা তা কিন্তু ইহুদি-নাসারাও এক বাক্যে মেনে নেয়। তাহলে সেই সেরা মানুষটিকে জীবনের আদর্শ হিসেবে মেনে নিতে আপনার মন সায় দেয়না কেন?
রাসুল (সাঃ)কে ভাল না বাসলে, তাঁর আদর্শে নিজেকে গড়ে না তুললে আপনি নিজেকে মুমিন দাবী করতে পারবেন না। ফলাফল, জাহান্নাম।

মহানবি হজরত মুহাম্মাদের (সাঃ) জীবনই সর্বোৎকৃষ্ট পূর্ণাঙ্গ জীবন। আল্লাহ তাআলা নিজ জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ভিত্তিতে তাকে শেষ নবি ও কিয়ামত পর্যন্ত আগত সকল মানুষের জন্য আদর্শ হিসেবে মনোনীত করেছেন, এবং তাকে বানিয়েছেন সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। তার জীবন আল্লাহ তাআলা তার বিশেষ তত্ত্বাবধানে গড়ে তুলেছেন। তার বরকতময় জীবনের সঙ্গে আমাদের পরিচয় হওয়া আবশ্যক। যেন তার আদর্শ আমাদের মুক্তির পথ হতে পারে।

তার জীবনাদর্শে রয়েছে মানবজাতির জন্য শিক্ষা ও উপদেশ। তার জীবনের প্রতিটি পর্বই উম্মতের জন্য আদর্শ। যুবক হিসেবে তিনি আদর্শ যুবক, স্বামী হিসেবে আদর্শ স্বামী, বন্ধু হিসেবে ছিলেন আদর্শ বন্ধু, শিক্ষক হিসেবে তিনি ছিলেন আদর্শ শিক্ষক, শাসক হিসেবে তিনি ছিলেন একজন আদর্শ শাসক।

নবিজির জীবনীগ্রন্থগুলোতে আমরা তার জীবনের সব দিক সম্পর্কেই জানতে পারি।শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ, পুত্র-কন্যা,আত্মীয়-স্বজন,প্রতিবেশীর সাথে কেমন চলবেন,এমন কি পারিবারিক গোপন বিষয়াদির ব্যপারেও দিকনির্দেশনা পাই তার জীবনবৃত্তান্তে। মহানবীর(সাঃ) জীবনের সব দিকই আমাদের সামনে পরিস্কার। তার জীবনের কোনো দিক গোপন নেই।তাঁর কথা বলা, চলাফেরা, কাজ-কর্ম, খাওয়া, ঘুম এমনকি বাথরুমে কিভাবে যাবেন তার নির্দেশনা ও পাওয়া যায় তাঁর সুন্নাহতে। জীবনে চলার পথে এমন কোন নির্দেশনা নেই যা তাঁর জীবন অনুসন্ধান করলে পাওয়া যাবে না। সেই মহামানব কে ছেড়ে আপনি কার পিছনে ছুটছেন?

নবীজির (সা.) নিস্কলুষ জীবন, সততা ও উন্নত চরিত্রই ছিল তার নবুয়্যতের সত্যতার বড় দলিল। কোরআনে আছে,আমি তো শুধু আমার প্রতি অবতীর্ণ ওহির অনুসরণ করি। নিশ্চয় আমি যদি রবের অবাধ্য হই তবে ভয় করি কঠিন দিনের আজাবের’। বলো ‘যদি আল্লাহ চাইতেন, আমি তোমাদের সামনে কোরআন পাঠ করতাম না। আর তিনিও তোমাদের এ ব্যাপারে অবহিত করতেন না। আমি তো এর আগে একটা দীর্ঘ সময় তোমাদের মাঝে কাটিয়েছি, তা সত্ত্বেও তোমরা কি বুঝবে না? (সুরা ইউনুস: ১৫, ১৬)
অর্থাৎ আমাকে তোমরা দীর্ঘ দিন দেখেছ। আমার চরিত্র, সততা, আমানতদারিতা সম্পর্কে তোমরা ভালো করেই জান। তাই তোমাদের বোঝা উচিত আল্লাহর ব্যাপারে আমি মিথ্যা বলতে পারি না।

আল্লাহ তাআলা তাকে সমস্ত পাপ-পঙ্কিলতা ও ভুল-ত্রুটি থেকে মুক্ত রেখেছেন। নবি হওয়ার আগেও তিনি কোনো ধরনের পাপে জড়িত হননি। তিনি নবি হওয়ার আগেও নিষ্পাপ, নবি হওয়ার পরও নিষ্পাপ ছিলেন। যেন তিনি সব মানুষের জন্য আদর্শ হতে পারেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ তাদের জন্য যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা করে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে। (সুরা আহজাব: ২১)
যেহেতু আল্লাহ তাআলা তার রাসুলকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত বানিয়েছেন, তার আদর্শকে অনুসরণ করা মানুষের জন্য আবশ্যক করেছেন, তাই তিনি তার জীবনকে নিজের বিশেষ তত্ত্বাবধানে গড়ে তুলেছেন এবং সমস্ত পাপ ও পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত রেখেছেন। তিনি মানবজাতির পথপ্রদর্শক এবং তার আদর্শই সর্বোত্তম আদর্শ। কথা-কাজে, চিন্তা-চেতনায়, আকিদা-বিশ্বাসে, ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মহানবীর (সাঃ) আদর্শ অনুসরণ করলে আমরা ইহকাল-পরকালে সাফল্য লাভ করবো।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে বুঝার ও মানার তাওফিক দান করুন!আমিন

Special Day

Special Day
দিন ঘন্টা মিনিট সেকেন্ড

ফেসবুকে লাইক দিন

Categories