পুলিশ ট্রেনিংয়ে প্রাণ হারালেন পরিবারের একমাত্র আশার আলো রাশেদুল ইসলাম
নিজস্ব প্রতিবেদক:
একটি পরিবারের সব স্বপ্ন থমকে গেলো অকালে। পুলিশ ট্রেনিংয়ে অংশ নিতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন রাশেদুল ইসলাম (২০)। মাত্র ৪৫ বছর বয়সে বাবা মরহুম আবুল হোসেন মিলনের মৃত্যুতে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন রাশেদুল। বাবা মরহুম আবুল হোসেন মিলন সিএনজি চালিয়ে জীবনে কঠিন সংগ্রাম করে পরিবারের ভরণপোষণ চালাতেন। সংসারে আলো হয়ে আসে তিন সন্তান — দুই ছেলে ও এক মেয়ে।
রাশেদুল ছিলেন পরিবারের বড় সন্তান। তাঁর স্বপ্ন ছিল নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ছোট বোন ও ছোট ভাইকে মানুষের মতো মানুষ করবেন। বোন বর্তমানে কলেজে পড়েন, আর ছোট ভাই পড়ে চতুর্থ শ্রেণিতে।
কিন্তু হঠাৎ করেই সব আশা নিভে গেল। ট্রেনিং চলাকালে অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন রাশেদুল। ছেলের এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার মা। স্বামী হারানোর পর ছেলেকে ঘিরে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। এখন বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন, তাঁর আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠছে।
তার মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রতিবেশীরাও কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তাদের একটাই প্রশ্ন— এত স্বপ্ন, এত প্রতীক্ষা কেন এভাবে থেমে গেল?
আজ এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানো ছাড়া কিছু বলার নেই। হারিয়ে গেছে তাদের ভবিষ্যতের একমাত্র ভরসা, তাদের একমাত্র আশার আলো।