শাহরাস্তির গর্ব মেহেদী হাসান হৃদয়: কবি ও গীতিকারের কলমে সমাজের প্রতিধ্বনি
আক্তার হোসেন শিহাব:
চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার ভোলদিঘী গ্রামে জন্ম নেওয়া মোঃ মেহেদী হাসান হৃদয় একাধারে কবি, গীতিকার, ছড়াকার এবং সংস্কৃতিকর্মী। ছোটবেলা থেকেই সাহিত্য ও সৃজনশীলতার প্রতি ছিল গভীর অনুরাগ। সেই আগ্রহ তাকে নিয়ে গেছে গান, ছড়া ও কবিতার ভুবনে এক উজ্জ্বল অবস্থানে।
শিক্ষাজীবনে তিনি ভোলদিঘী কামিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল, সূচিপাড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট এবং মেহের ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২৪ সালে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান। পিতা মোঃ মনির হোসেন একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং বর্তমানে ব্যবসায়ী। মাতা জান্নাতুল ফেরদাউস একজন গৃহিণী। ছোট ভাই-বোনদের মধ্যে তানজিনা বিবাহিত, তানিয়া কুমিল্লা আর্ট নার্সিং কলেজে অধ্যয়নরত এবং মারিয়া ইন্টারমিডিয়েটে নাওড়া মহিলা কলেজে অধ্যয়ন করছে।
মেহেদী হাসান হৃদয়ের কণ্ঠে এবং কলমে উঠে আসে সমাজের সত্যচিত্র ও সময়ের প্রতিবাদ। ইতোমধ্যে তিনি ১৩টি মৌলিক গান রচনা ও পরিবেশন করেছেন, যার প্রতিটিতে রয়েছে সমাজ সচেতনতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, দেশপ্রেম এবং সাংস্কৃতিক জাগরণের বার্তা। তাঁর উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে রয়েছে—
‘স্নেহের পরশ’, ‘সিয়ামের বার্তা’, ‘এলো খুশির ঈদ’, ‘আধুনিকতা’, ‘রক্তঝরা কাফেলা’, ‘সুস্থ সংস্কৃতি’, ‘বাবাকে হারিয়ে ঈদ’, ‘আমরা ছাত্র শিবির’, ‘বন্যাতে আজ ভাসছে দেখো আমার বাংলাদেশ’, ‘বিজয়ের গান গাইলাম’, ‘বাংলাদেশের শত্রু ভারত’, ‘আছিয়া বোন ধর্ষিত’, ‘ইস্যু গান’ ইত্যাদি।
তবে হৃদয়ের প্রতিভা গানেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি এখন পর্যন্ত প্রায় ২৮৫টি ছড়া ও কবিতা রচনা করেছেন, যার প্রতিটিতে ফুটে উঠেছে তার মননশীলতা, সমাজবোধ এবং নৈতিক চেতনা। তার লেখার প্রতিটি পঙক্তি যেন সমাজের ভাষ্য, সময়ের সাক্ষ্য।
মেহেদী হাসান হৃদয় আজ শুধু ভোলদিঘী নয়, বরং গোটা শাহরাস্তির সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক উজ্জ্বল নাম। তার স্বপ্ন—সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে গড়ে তোলা একটি আলোকিত, নৈতিক ও মানবিক সমাজ। তার কবিতা ও গানে ধ্বনিত হয় সত্য, জাগরণ আর সুস্থ চেতনার আহ্বান।