মেহার উচ্চ বিদ্যালয়ে ফলাফলের ভয়াবহ পতনচার বছরে পাসের হার ৭১% থেকে ৩০%-এ নেমে গেছে
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার মেহার উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান ও ফলাফল দুইই দ্রুত নিম্নমুখী। ২০২২ সালে ৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেন ৭৬ জন (পাসের হার প্রায় ৯০%)। ২০২৩ সালে ১১৯ জনের মধ্যে ১১১ জন পাস করে ভালো ফল ধরে রাখলেও, ২০২৪ সালে ৮৩ জনের মধ্যে পাস করেন ৬৬ জন (পাসের হার প্রায় ৭৯%)। আর ২০২৫ সালে এই হার নেমে আসে মাত্র ৩০%–এ; ১০৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেন মাত্র ৩১ জন।
প্রধান শিক্ষক সনজিত কুমার সরকার মনে করেন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কমে যাওয়া, বাসায় পড়াশোনার অভ্যাস না থাকা এবং অভিভাবকদের অনাগ্রহ এই পতনের বড় কারণ। তাঁর মতে, “শুধু স্কুলের ওপর ভরসা করলে হবে না, পরিবার থেকেও শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় নজর রাখতে হবে।”
তবে অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ ভিন্ন। তারা বলছেন, বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক ক্লাসে পুরোপুরি পাঠ না দিয়ে প্রাইভেট পড়াশোনার দিকে শিক্ষার্থীদের চাপ দিচ্ছেন। মাসিক ৮০০ থেকে ১৫০০ টাকার এই খরচ গরিব পরিবারের জন্য কষ্টকর। এছাড়া প্রাইভেটে না পড়লে অবহেলা ও মানসিক চাপে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, শিক্ষার মান ধরে রাখতে তিনটি পদক্ষেপ জরুরি—বিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও বাসায় পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে তোলা, এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা। পাশাপাশি শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা মেনে নিজ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করতে হবে।
মেহার উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফলের এই পতন স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য সতর্কবার্তা হয়ে উঠেছে। সঠিক উদ্যোগ ও কঠোর নজরদারি ছাড়া এই নিম্নগতি থামানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।