আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
আজঃ রবিবার ● ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ ● ৭ই জুন, ২০২৬ ● ২১শে জিলহজ্জ, ১৪৪৭ ● দুপুর ১:৪৩
সর্বশেষঃ

ইমাম-মুয়াজ্জিন: সম্মান আছে, সম্মানী নেই

ইসলামে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের অবস্থান অত্যন্ত সম্মানজনক। তাঁরা মসজিদের প্রাণ, সমাজের নৈতিক পথপ্রদর্শক এবং ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। অথচ বাস্তবতা হলো—এই মর্যাদার স্থানে থেকেও দেশের অধিকাংশ ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক মসজিদে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী ৩-৫ হাজার টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই অর্থ দিয়ে বর্তমান বাজারে একটি পরিবার চালানো দূরহ তো বটেই, বরং অপমানজনক এক অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হন তাঁরা।

বেসরকারিভাবে পরিচালিত অধিকাংশ মসজিদেই তহবিল সংকট বা ব্যবস্থাপনা কমিটির অবহেলায় তাঁদের ন্যায্য সম্মানী নিশ্চিত হয় না। কোথাও আবার মাসের পর মাস বেতন বকেয়া থাকে। অথচ একই মসজিদে লাখ টাকার দানবাক্স জমা হলেও সে অর্থ ব্যয় হয় ভবন নির্মাণ বা সৌন্দর্য বর্ধনে—ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জীবনের বাস্তবতা সেখানে উপেক্ষিতই থেকে যায়।

ইমামদের অনেকেই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টিউশনি, হোমিও চেম্বার কিংবা খণ্ডকালীন অন্য কোনো কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। মুয়াজ্জিনদের অবস্থা আরও করুণ। দিনের বেশিরভাগ সময় মসজিদে ব্যয় করেও তাঁদের অনেকে পরিবারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচও জোগাতে পারেন না।

সমাজের এক শ্রেণির মানুষ তাঁদের শুধুমাত্র নামাজ পড়ানোর লোক হিসেবে বিবেচনা করেন, কিন্তু তাঁদের পরিবার, সন্তান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করার কেউ নেই। এমন বৈষম্য দুঃখজনক ও ন্যায্যতার পরিপন্থী।

ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, সমাজের বিত্তবান এবং সরকার—সবার উচিত এই অবহেলিত শ্রেণির প্রতি সদয় হওয়া। প্রতি মসজিদে একটি নির্দিষ্ট ফান্ড রাখা, জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ন্যূনতম বেতন কাঠামো নির্ধারণ এবং মাসিক জীবিকা নিশ্চিত করাই হতে পারে টেকসই সমাধান।

ইমাম-মুয়াজ্জিনরা শুধু ধর্মীয় আচার পালন করেন না, তাঁরা সমাজকে নৈতিকতা ও মানবতার দিকে আহ্বান জানান। তাই তাঁদের জীবনের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সামষ্টিক দায়িত্ব—তা না হলে আমরা নৈতিকতার যে আলো তাঁদের কাছ থেকে পেতে চাই, তা ধীরে ধীরে নিভে যাবে।

Special Day

Special Day
দিন ঘন্টা মিনিট সেকেন্ড

ফেসবুকে লাইক দিন

Categories