গতবছরের আজ—নিষিদ্ধ হয়েছিল জামায়াত ও ছাত্রশিবির
ডেস্ক রিপোর্ট :
গতবছরের এই দিনে, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট, বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তটি দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
সরকার জানায়, ২০০৯ সালের “Anti-Terrorism Act” এর আওতায় জামায়াত ও শিবিরকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে চিহ্নিত করে Schedule-II তালিকাভুক্ত করা হয়। সরকারের দাবি, এই সংগঠন দুটি সাম্প্রতিক সময়ের সহিংস আন্দোলন, ভাংচুর, এবং অরাজকতায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল। বিশেষ করে শিক্ষার্থী আন্দোলনের সময় সংঘটিত বেশ কয়েকটি সহিংস ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ১৪ দলীয় জোটের সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর সরকার দ্রুতই গেজেট আকারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। এতে বলা হয়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার্থেই এই পদক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়েছিল।
অন্যদিকে, জামায়াত ও শিবির উভয়েই সরকারের এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ, গণতন্ত্রবিরোধী ও সংবিধানবিরোধী আখ্যা দেয়। তারা বিবৃতি দিয়ে জানায়, সংগঠন দুটি শান্তিপূর্ণ রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং এই নিষেধাজ্ঞা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছু নয়।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসে, কেউ কেউ এটিকে সরকারের রাজনৈতিক দমননীতি বলেও উল্লেখ করে। তবে সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকে এবং নিষিদ্ধ ঘোষণার পর সংগঠন দুটির বিভিন্ন অফিসে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু আলামত জব্দ করে।
এক বছর পর আজ, সেই ঘটনার বার্ষিকীতে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ জনগণের মাঝে বিষয়টি নিয়ে আবারো আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এ সিদ্ধান্ত দেশের রাজনীতিতে একধরনের একচেটিয়াকরণ তৈরি করেছে। অন্যদিকে অনেকে এটিকে চরমপন্থার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে অভিহিত করছেন।