মিজানের পরিবারের পাশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল

রাজনীতির মাঠে হারানো এক কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব নিলেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা
রাজনীতির মাঠে কর্মীদের উপস্থিতি অনেক সময় মিছিল, সভা কিংবা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু কোনো কর্মী মৃত্যুবরণ করার পর তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানো কতটা সম্ভব হচ্ছে, সেটিই হয়ে ওঠে নেতৃত্বের মানবিকতার বড় পরীক্ষা।
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে প্রয়াত যুবদল নেতা মিজানুর রহমানের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতারা এমনই একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন।
মিজানুর রহমান (৩৫) ছিলেন রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের নাহারা গ্রামের আব্দুল মমিনের ছেলে মিজান পারিবারিক জীবনে এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন।
২০২৫ সালের ৫ আগস্ট, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিএনপির কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন তিনি। ওইদিন শাহরাস্তি উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির আনন্দ মিছিল ও সমাবেশে যোগ দিতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে জড়ো হওয়ার সময় হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন মিজান। পরে তাকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মিজানের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি যেমন একজন স্বজনকে হারায়, তেমনি রাজনৈতিক সংগঠন হারায় একজন সক্রিয় কর্মীকে। কিন্তু মৃত্যুর পরও তার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি স্থানীয় বিএনপির নেতারা।
এরই ধারাবাহিকতায় ১২ সেপ্টেম্বর রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সভায় মিজানুর রহমানের পরিবারের হাতে ২ লাখ টাকার একটি চেক তুলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বিএনপির নেতাদের উদ্যোগে দেওয়া এই সহায়তায় সামনে ছিলেন চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক, শাহরাস্তি উপজেলা বিএনপির সভাপতি আয়েত আলী ভূঁইয়া, সহসভাপতি রুপন পাটোয়ারী এবং প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ও রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল ইসলাম বিলাস।
দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, মিজানের পরিবারের জন্য এই সহযোগিতা কেবল আর্থিক সহায়তা হিসেবে দেখার বিষয় নয়। একজন কর্মীর মৃত্যুর পর তার পরিবারকে সংগঠনের দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করাই এখানে মূল বিষয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির নেতৃবৃন্দ মিজানের পরিবারের পাশে ভবিষ্যতেও থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ফলে দুই সন্তানকে রেখে যাওয়া মিজানের পরিবারের জন্য এই আশ্বাসও হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনীতিতে হাজারো কর্মী বিভিন্ন সময়ে নানা কারণে মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু একজন ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মীর মৃত্যুর পর তার পরিবারের খোঁজ নেওয়া, আর্থিক সহায়তা দেওয়া এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার ঘোষণা দেওয়া—এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় রাজনীতিতে খুব বেশি দেখা যায় না।
মিজানের ঘটনাটি তাই শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুর গল্প নয়। এটি সংগঠনের সঙ্গে একজন কর্মীর সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্কের দায় মৃত্যুর পরও কতটা বহন করা যায়, সেই প্রশ্নটিও সামনে আনে।
নেতৃত্বের দায়িত্ব কেবল কর্মসূচির সময় কর্মীদের পাশে থাকা নয়; কঠিন সময়ে তাদের পরিবারকেও মনে রাখা। মিজানের পরিবারের হাতে ২ লাখ টাকার সহায়তা তুলে দেওয়ার ঘটনাটি সেই দায়িত্ববোধের একটি স্থানীয় উদাহরণ হয়ে থাকল।