আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
আজঃ শনিবার ● ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ ● ৬ই জুন, ২০২৬ ● ২০শে জিলহজ্জ, ১৪৪৭ ● বিকাল ৫:৩৮
সর্বশেষঃ

চাঁদপুরে স্বামীর করা যৌতুক মামলায় স্ত্রী কারাগারে

ডেক্স রিপোর্ট:

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে স্বামীর দায়ের করা যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় স্ত্রীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

৪ নভেম্বর (মঙ্গলবার) চাঁদপুরের শাহরাস্তি আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তন্ময় কুমার দে আসামি কামরুন নাহার (৩২) এর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

আসামি কামরুন নাহার চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার বেরনাইয়া গ্রামের মজিবুর রহমানের স্ত্রী। তার স্বামী মজিবুর রহমান গত ২০ জুলাই ২০২৫ তারিখে যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮-এর ৩ ধারায় শাহরাস্তি আমলী আদালতে (সি.আর-৩৭১/২০২৫) মামলা দায়ের করেন।

মামলার প্রেক্ষিতে আদালত ২১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। কিন্তু সমন প্রাপ্তির পরও কামরুন নাহার আদালতে হাজির না হওয়ায় ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে শাহরাস্তি থানা পুলিশ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় শাহরাস্তির কালীবাড়ি এলাকা থেকে কামরুন নাহারকে গ্রেফতার করে।
পরদিন ৪ নভেম্বর (মঙ্গলবার) তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন চাঁদপুর বারের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ সাইফুল মোল্লা।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুন শাহরাস্তি উপজেলার উল্লাশ্বর গ্রামের আবুল কালামের কন্যা কামরুন নাহারের সঙ্গে একই উপজেলার বেরনাইয়া গ্রামের আবুল কাশেমের পুত্র মজিবুর রহমানের ২ লাখ টাকা দেনমোহরে বিবাহ হয়।

বিবাহের সময় স্বামী পক্ষ থেকে কামরুন নাহারকে প্রায় ৪ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার দেওয়া হয় এবং মেহমানদারিতে খরচ হয় প্রায় ২.৫ লাখ টাকা।

বিবাহের পর থেকে স্ত্রী কামরুন নাহার তার স্বামীকে নগদ অর্থ, জমি লিখে দেওয়া এবং শহরে ফ্ল্যাট কিনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। তিনি স্বামীর কাছ থেকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বলে একাধিকবার টাকা নেন—যার মধ্যে ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট ১,৯৭,০০০ টাকা এবং ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ১,৬০,০০০ টাকা, যা পরবর্তীতে আর ফেরত দেননি।

এছাড়া কামরুন নাহার পরকীয়াসহ অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি এর আগে আরও তিনটি বিয়ে করেছেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

স্ত্রী কামরুন নাহার তার স্বামীর দুইটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিজের নামে লিখে দিতে এবং যৌতুক হিসেবে শহরে ফ্ল্যাট কেনার দাবি জানিয়ে দাম্পত্য জীবনে চরম অশান্তি সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে স্বামীর ব্যবসায়িক কাজে রাখা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ সাইফুল মোল্লা বলেন,
যৌতুক নিরোধ আইন ২০১৮-এর ৩ ধারায় বলা আছে—যদি বিবাহের কোনো এক পক্ষ অন্য পক্ষের কাছে যৌতুক দাবি করে, তবে সেটি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধের জন্য ১ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে। স্ত্রী যদি যৌতুক দাবি করে, তার বিরুদ্ধেও মামলা করা যায়। আদালত আমাদের মামলা আমলে নিয়ে যথাযথ আদেশ দিয়েছেন

শাহরাস্তির বেরনাইয়া গ্রামের স্থানীয়রা জানান, কামরুন নাহার বিয়ের পর থেকে সংসারে নানা অশান্তি সৃষ্টি করতেন। এর আগেও তার তিনটি সংসার ভেঙে গেছে। তারা আদালতের রায়ের প্রশংসা করে বলেন, এমন নারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ায় অন্যরা সতর্ক হবে।

চাঁদপুরের সুশীল সমাজের একাংশ মনে করে, বর্তমানে অনেক পুরুষও গৃহস্থালি জীবনে নারীদের দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছেন কিন্তু সামাজিক লজ্জার কারণে তা প্রকাশ করেন না। নৈতিক অবক্ষয়, লোভ, পরকীয়া ও বিলাসিতার কারণে দাম্পত্য জীবনে এমন ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে বলে তাদের মন্তব্য।

মাননীয় আদালতের এই রায় প্রমাণ করেছে যে আইন সবার জন্য সমান।
মজিবুর রহমান তার স্ত্রীর অনৈতিক চাপ ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই করে ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

Special Day

Special Day
দিন ঘন্টা মিনিট সেকেন্ড

ফেসবুকে লাইক দিন

Categories