বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ব্যারিস্টার কামাল উদ্দিনের আহ্বান: “৭১, ৯০ আর ২৪-এর শিক্ষা—জনগণের ঐক্যই পরিবর্তনের শক্তি”
মোঃ সাইফুদ্দীন:
শাহরাস্তির রাজপথ শনিবার বিকেলে এক অন্যরকম দৃশ্যের সাক্ষী হলো। বিএনপি’র ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে হাজারো মানুষ চাঁদপুর-০৫ আসনের ধানের শীর্ষের মনোনয়ন প্রত্যাশি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে মিছিল নিয়ে নেমে এলেন র্যালিতে। পতাকা হাতে সাধারণ মানুষ, ঢাক-ঢোলের শব্দে উচ্ছ্বসিত যুবকরা আর নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি—সব মিলিয়ে উপজেলা সদর থেকে ঠাকুরবাজার পর্যন্ত সড়ক পরিণত হয় এক উৎসবের মিছিলে।
এই সমাবেশ ছিল না কেবল দলের আনুষ্ঠানিকতা। এটি ছিল জনতার আস্থার প্রকাশ, ছিল পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা।
প্রধান বক্তা চাঁদপুর-০৫ আসনের ধানের শীর্ষের মনোনয়ন প্রত্যাশি ব্যারিস্টার কামাল উদ্দিন তার বক্তব্যে স্মরণ করালেন বাংলাদেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের ২৪ তারিখের আন্দোলন। তার ভাষায়,
“আমাদের ইতিহাস বলছে, জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন অন্যায়ের দেয়াল ভেঙে পড়ে। আজও সেই ঐক্যের প্রয়োজন।”
তিনি পরিষ্কার জানালেন, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা ছাড়া গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ সম্ভব নয়। তাই নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তার দৃঢ় আহ্বান ছিল, ভয় না পেয়ে রাজপথে থাকতে হবে, আর জনগণের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হবে।
র্যালির বিশেষত্ব ছিল জনতার অংশগ্রহণ। কেবল দলীয় নেতাকর্মী নয়, সাধারণ মানুষও এগিয়ে এসেছে। তারা হাতে পতাকা ধরে, স্লোগানে কণ্ঠ মেলাচ্ছিল। একজন প্রবীণ অংশগ্রহণকারী বললেন, “আমরা এই র্যালিতে এসেছি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভোটাধিকার ফেরানোর দাবিতে।” এ বক্তব্য যেন র্যালির মূল সুরকেই প্রতিধ্বনিত করল।
পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের সিএ বললেন, এই বিজয় র্যালি শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জে নতুন রাজনৈতিক জাগরণ সৃষ্টি করেছে। সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ফারুক হোসেন মিয়াজি যোগ করলেন, ৭১, ৯০ আর ২৪-এর শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে কোনো অন্যায় স্থায়ী হতে পারে না।
ভবিষ্যতের রোডম্যাপ
র্যালি শেষে আলোচনায় নেতারা একমত হন, জনগণের আস্থা বিএনপি’র সবচেয়ে বড় শক্তি। সেই শক্তিকে নিয়েই সামনে এগোতে হবে। রাজপথে গণতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত রাখা, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিরাপদ করা—এগুলোই হবে বিএনপি’র পথচলার দিকনির্দেশনা।
শাহরাস্তির এই র্যালি প্রমাণ করেছে, বিএনপি এখনও রাজপথে জনতার শক্তি সংগঠিত করতে সক্ষম। জনগণের বিশ্বাসই তাদের আসল প্রেরণা, আর সেই বিশ্বাসই ভবিষ্যতের পরিবর্তনের আলো হয়ে উঠছে।