আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে চান? - বিস্তারিত
আজঃ রবিবার ● ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ ● ৭ই জুন, ২০২৬ ● ২১শে জিলহজ্জ, ১৪৪৭ ● বিকাল ৩:১৬
সর্বশেষঃ

চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রী সংকট, অর্ধেকে নেমেছে লঞ্চ চলাচল

ঢাকা-চাঁদপুর-নারায়ণগঞ্জ রুটে লঞ্চ চলাচলে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। যেখানে একসময় প্রতিদিন অর্ধশতাধিক লঞ্চ চলাচল করত, এখন সেখানে চলাচল করছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টি লঞ্চ। যাত্রী সংকটে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছে লঞ্চ মালিকরা, বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছেন অনেকেই।

চাঁদপুর লঞ্চঘাটে যাত্রী হ্রাসের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খাত ও আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও। যাত্রী কমে যাওয়ায় লঞ্চ শ্রমিক থেকে শুরু করে রিকশা-অটো চালক, হকার, খাবারের দোকানি—সবাই অলস সময় পার করছেন। কেউ কেউ আবার পেশা বদলেও বাধ্য হচ্ছেন।

লঞ্চ মালিক ও কর্মীদের দাবি, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় এবং সড়কপথের উন্নয়নে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ এখন বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে যাতায়াত করছেন। বিশেষ করে বর্ষা ও কালবৈশাখীর মৌসুমে নদীপথ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, ফলে যাত্রীসংখ্যা আরও কমে যায়।

এমভি রহমত লঞ্চের সুপারভাইজার সোহেল ও কেরানি আলমগীর জানান, ঈদসহ বিশেষ দিনগুলোতে আগে লঞ্চে উপচে পড়া ভিড় থাকত। সাধারণ সময়েও ব্যয় সামলে চলা যেত। কিন্তু গত কয়েক বছরে যাত্রী কমে যাওয়ায় অনেক মালিকই বাধ্য হয়ে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। আগে যেখানে এক মালিকের তিন-চারটি লঞ্চ চলত, এখন হয়তো একটিই চালু রয়েছে।

তারা আরও জানান, প্রতিদিন একটি লঞ্চ চালাতে খরচ হয় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত। এরমধ্যে শ্রমিকদের বেতনসহ অন্যান্য ব্যয় রয়েছে। অথচ বর্তমানে প্রতিটি সার্ভিসেই ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুণতে হচ্ছে।

চাঁদপুর থেকে ঢাকাগামী যাত্রী মঞ্জু আহমেদ বলেন, “লঞ্চে ভ্রমণ আরামদায়ক হলেও সময় বাঁচাতে এবং ঝড়-তুফানের ঝুঁকি এড়াতে বাসে যাতায়াত করি।”

চাঁদপুর লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি বিপ্লব সরকার জানান, “সড়কপথ উন্নয়নের পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়া এবং কম খরচে চলাচলকারী মাইক্রো-প্রাইভেটকারের দাপট লঞ্চ ব্যবসাকে চরম সংকটে ফেলেছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে বিআইডব্লিউটিএ ও মালিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”

বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বসির আলী খান বলেন, “যাত্রী কিছুটা কমলেও নদীপথে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়নি। যারা আরামদায়ক ভ্রমণ পছন্দ করেন, তারা এখনও লঞ্চে যাতায়াত করছেন। তবে সময় সাশ্রয়ের কারণে বেশিরভাগ যাত্রী এখন সড়কপথ বেছে নিচ্ছেন।”

চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনালের এই পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে ভাবিয়ে তুলেছে। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনপ্রিয় এই নৌরুট হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Special Day

Special Day
দিন ঘন্টা মিনিট সেকেন্ড

ফেসবুকে লাইক দিন

Categories