শাহরাস্তিতে শালিসে অপমান ও জরিমানার চাপে যুবকের আত্মহত্যা; বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে আয়োজিত স্থানীয় শালিসে অপমান ও বড় অঙ্কের জরিমানার চাপ সহ্য করতে না পেরে সোহেল (২২) নামে এক যুবক বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, প্রভাবশালী মহলের চাপিয়ে দেওয়া অপমান ও এক লাখ টাকা জরিমানার গ্লানি সইতে না পেরে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন।
এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার বেরনাইয়া বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
নিহত সোহেল উপজেলার খিলা গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে। পরিবারের দাবি, একই এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে সোহেলের দীর্ঘ ৪-৫ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি ওই তরুণীর বিয়ে অন্যত্র ঠিক হলে গত ২ ডিসেম্বর সোহেল বিষয়টি হবু বরের বাড়িতে গিয়ে জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়ের পরিবার স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ে গত ৩ ডিসেম্বর এক শালিস বৈঠকের আয়োজন করে।
নিহতের বাবা মোস্তফা মিয়া অভিযোগ করেন, শালিস বৈঠকে প্রভাবশালীরা সোহেলকে চরমভাবে অপমান করেন এবং বিয়ে ভেঙে দেওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। তিনি বলেন, “আমার ছেলে সামাজিক লাঞ্ছনা ও জরিমানার টাকা জোগাড় করার ভয়ে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছিল। মূলত এই মানসিক নির্যাতনই তাকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে।”
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে সোহেল নিজ ঘরে বিষপান করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৭ ডিসেম্বর বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
২০ ডিসেম্বর, বেরনাইয়া বাজারে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এলাকায় এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি বিচারের নামে নিয়মিত সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও অর্থদণ্ড দিয়ে থাকেন। সোহেলের মৃত্যুর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। মানববন্ধনে নিহতের স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।